আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনঃ প্রার্থীদের কাছে প্রত্যাশা! -মোহাইমিনুল ইসলাম জসীম

আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনঃ প্রার্থীদের কাছে প্রত্যাশা! -মোহাইমিনুল ইসলাম জসীম

প্রিয় আংগারিয়া ইউনিয়ন বাসী,
আসসালামু আলাইকুম।
সুদীর্ঘ সময়ের ইতিহাস সমৃদ্ধ ও কীর্তিনাশা নদী বিধৌত ‘আংগারিয়া বন্দর’ একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ। শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলার(পালং থানা) আংগারিয়া বন্দরের চতুর্দিকে বিস্তৃত বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ এই বন্দর কেন্দ্রিক জীবন ব্যবস্থায় প্রতক্ষ্য ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে।আংগারিয়া ইউনিয়ন সহ চিতলীয়া,রুদ্রকর,বিনোদপুর,মাহমুদপুর,তুলাশার এবং শরীয়তপুর পৌরসভার বেশ বড় একটি অংশের কেন্দ্রে আংগারিয়া বন্দরের অবস্থান। ফলে এই ইউনিয়ন গুলোর মানুষের কাছে আংগারিয়ার গুরুত্ব সবসময়ই প্রাধান্য বিস্তার করে আছে,ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে-একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। শিক্ষা-দীক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য আর রাজনীতি-সব কিছুতেই যেন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দুতে থাকে এই আংগারিয়ার অবস্থান।
বিজ্ঞাপণ
বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব, শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের অবিসংবাদিত মুরুব্বী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক পৌর মেয়র,মুক্তিযোদ্ধা জননেতা জনাব আবদুর রব মুন্সী এবং  জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী, নন্দিত জননেতা মরহুম ইয়াকুব আলী হাওলাদার এই আংগারিয়া ইউনিয়নেরই সন্তান। দেশের দুই প্রধান দলের দুই বটবৃক্ষ হয়ে শরীয়তপুর জেলার রাজনীতিতে যারা রচনা করেছিলেন অনন্য ইতিহাস, দীর্ঘকাল হাল ধরে সঠিক পথে দল পরিচালনা করে যারা অর্জন করেছিলেন মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা। ভাবতে গর্ব হয়,তারা আংগারিয়া ইউনিয়নেরই সন্তান।
এই দুই মহীরুহের স্মৃতিধন্য আংগারিয়া ইউনিয়নের রাজনীতি সব সময় উত্তাপ ছড়িয়েছে ভিন্ন মাত্রায়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বরাবরই ঝড় তুলেছে চায়ের কাপে। কিন্তু তারপরও একটা ব্যাপার লক্ষনীয় যে, এখানকার মানুষের মধ্যে যেমন এই দুই নেতার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা ছিল অসীম তেমনি মানুষগুলোও পরস্পর ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকতো সব সময়। নির্বাচন নিয়ে কোন রকম অসন্তোষ, সহিংসতা হলেও পরে সেটা মিলিয়ে যেত সময়ের সাথে সাথে। দিনশেষে আবার সবাই একই রাস্তায়,একই মাঠে কিংবা একই বাজারে জমায়েত হতো নিত্যদিনের প্রয়োজনে।
এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে মরহুম নওয়াব আলী খান,মরহুম জালাল উদ্দীন সাঝী, সর্বজন শ্রদ্ধেয় মরহুম আবদুল মোতালেব বেপারী, মুরহুম ইয়াকুব আলী হাওলাদার, আবদুর রব হাওলাদার এবং আনোয়ার হোসেন হাওলাদার অত্যন্ত দক্ষতা আর সাফল্যের সাথে ইউনিয়ন পরিচালনা করেছিলেন,মানুষের পাশে ছিলেন।
সময়ের পরিক্রমায় আবার একটি নির্বাচনের দোরগোড়ায় এই ইউনিয়নের অধিবাসীরা। প্রার্থী হিসেবে আছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হাওলাদার ও নতুন মুখ আসমা আকতার। মেধা, শিক্ষা আর সাংগঠনিক দক্ষতায় দুজনেই যোগ্যতা সম্পন্ন। তাই, ইউনিয়ন বাসীর যেমন সুযোগ আছে নিজ নিজ স্বাধীনতা মোতাবেক প্রার্থী বাছাইয়ের তেমনি অধিকার আছে পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট প্রদান করার। তাই দুই প্রার্থীর কাছেই সাধারণ মানুষের কিছু চাওয়া-পাওয়া আছে, আছে প্রার্থীদেরও কিছ দায়বদ্ধতা।তারই কিছু চুম্বক অংশ নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ
==================================
নির্বাচন পূর্বঃ
১. নির্বাচনের সার্বিক সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা।
২. যেকোনো ধরণের সহিংসতা পরিহার করা। মারামারি, হানাহানি এখন আর মানুষ পছন্দ করে না।
৩. প্রার্থীদের পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।
৪. নির্বাচনী প্রচারণায় একজন আরেকজনকে বাধা প্রদান না করা।
৫. পোষ্টার, ব্যানার,ফেস্টুন না ছেড়া(নির্বাচন চলাকালীন সময়ে)
৬. এক প্রার্থী অন্য প্রার্থী সম্পর্কে অশোভন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য না করা।
৭. ভোট গ্রহনের দিন ভোট কেন্দ্রে কোন রকমের গোলযোগ সৃষ্টি না করে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট প্রদানে ভোটারদের উৎসাহিত করা।
নির্বাচন উত্তরঃ
১. হার-জিত যা-ই হোক,জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জনগনের রায় মেনে নেয়া।
২. বিজয়ী প্রার্থিকে অভিনন্দন জানিয়ে বিজিত প্রার্থীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করা।
৩. বিজয়ী প্রার্থীর পক্ষ থেকে বিজিত প্রার্থীর প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ প্রদর্শন করে পেশাদারীত্বের পরিচয় দেয়া।
৪. প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নির্বাচন উত্তর যেন কোন রকম সহিংস ঘটনা না ঘটে এ ব্যাপারে বিজয়ী ও বিজিত দুই প্রার্থীরই সচেষ্ট থাকা।
৫. নিজ দ্বায়িত্বে  নিজ নিজ পোষ্টার অপসারণ করে পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নিশিত করা।
এবার আসি যিনি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে আগামী পাঁচ বছর যে প্রত্যাশা থাকবে।
১. উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা।
২. শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া অবহেলিত আংগারিয়া ইউনিয়নে শিক্ষা বিস্তারে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
৩. আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে মল্লিক বাড়ি পর্যন্ত কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নাই। অথচ এই এলাকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুদেরকে বাইপাস সড়ক এবং আংগারিয়া বন্দরের ব্যাস্ত রাস্তা পার হয়ে আংগারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিংবা অন্যান্য কিন্ডারগার্টেনে যেতে হয়। তাই বাইপাস সড়ক ও ভেঁড়িবাধের আশেপাশে একটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা এখন সময়ের দাবী।
৪. আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে আংগারিয়া খালের তীর ঘেঁষে নদীর পাড় পর্যন্ত রাস্তা প্রসস্থ করে লোক জন ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা।
৫. আংগারিয়া খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সহ খাল পূণর্খনন করে পানি প্রবাহ ও নৌযান চলাচল নিশ্চিত করা।
৬. মধ্য বাজারে মজিবর তালুকদারের ঘর ও লক্ষী নারায়ণ সাহার ঘরের মাঝ দিয়ে খালের উপর সেতু নির্মানসহ একটি সংযোগ রাস্তা সরাসরি বাইপাস সড়কের সাথে সংযুক্ত করা।
৭. সারা ইউনিয়ন ব্যাপি ছোট ছোট খাল,জলাশয়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া।
৮. ইউনিয়ন ব্যাপি ছোট বড় রাস্তার সংস্কার করে জন দুর্ভোগ লাঘব করা।
৯. তুলাতলা বাজার ও নতুনহাটের সাথে আংগারিয়া বাজারের যোগাযোগ আরও উন্নত ও সহজ করা।
১০. অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় – বিচার শালিসের ক্ষেত্রে সঠিক ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা। এক্ষেত্রে কোন রকম কোন স্বজনপ্রীতি কে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।
উপরোক্ত বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে একটি সুন্দর ও আধুনিক ইউনিয়ন বিনির্মানে শুধু চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদেরকেই নয় আমাদের সকলেরই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। হিংসা-বিদ্বেষ,মারামারি হানাহানি ভুলে দিতে হবে সহনশীলতার পরিচয়। কেবলমাত্র তখনই দেয়া যাবে একটি শান্তি -শৃঙখলা সমৃদ্ধ ইউনিয়নের নিশ্চয়তা।
——-মোহাইমিনুল ইসলাম জসীম
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
ফিচার রাজনীতি শরিয়তপুর সারাদেশ